বৃহস্পতিবার । ২৫শে জুন, ২০২৬ । ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩

নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয় যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আসন্ন এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এবছর থেকে নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবং আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যারাই প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত কোন পোস্ট ফেসবুকে দিবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎক্ষণাৎ তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, প্রমাণ চাইবেন তাদের কাছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে ঢোকানোর পরেও আগে থেকে কেউ যদি পরীক্ষার হলে বইপত্র রেখে আসে তার দায় শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের জন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হতো খাতায় নম্বর বেশি দিয়ে পাশ করিয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে আমরা র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং এর মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে চেক করবো, কীভাবে মার্কিং করা হচ্ছে, কীভাবে খাতা দেখা হচ্ছে। আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই সংশোধনী পাশ হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা চেক করা যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চান আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষার সংমিশ্রণ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্কুলে মিড-ডে-মিল দেয়া হবে এবং এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। এবং শিক্ষার কোন পর্যায়েই কোন সেশনজট থাকবে না।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দীর্ঘ সময় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা। বিগত ২০ বছর ধরে যে সকল শিক্ষকরা ফাঁকি দিয়ে, প্রভাব খাঁটিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে বসবাস করছেন, তাদের আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু: আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান।

খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন